রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে অজানা তথ্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে অজানা তথ্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে অজানা তথ্য

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের কিছু অল্প পরিচিত গল্প ও তথ্য

ভূমিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি বিশ্বকবি নামে পরিচিত, বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করা এই মহান ব্যক্তিত্ব শুধু কবি নন, তিনি ছিলেন নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক। তবে তাঁর জীবনের অনেক দিক এখনও অনেকের কাছে অজানা। এই লেখায় আমরা রবীন্দ্রনাথের জীবনের কিছু অল্প পরিচিত তথ্য নিয়ে আলোচনা করবো।

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অজানা তথ্য

১. শৈশবের ডাকনাম “রবি”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শৈশবের ডাকনাম ছিল “রবি”। এই নামটি তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্নেহের সাথে ব্যবহার করতেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৬১ সালের ৭ মে, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। তাঁর শৈশব কেটেছিল একটি সংস্কৃতিমনস্ক পরিবেশে, যেখানে সাহিত্য, সঙ্গীত এবং শিল্প ছিল প্রতিদিনের জীবনের অংশ।

২. প্রথাগত শিক্ষার প্রতি অনীহা

রবীন্দ্রনাথ কখনোই প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না। তিনি স্কুলে বেশিদিন পড়াশোনা করেননি এবং বাড়িতেই প্রাইভেট টিউটরদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। তাঁর মতে, প্রকৃত শিক্ষা আসে অভিজ্ঞতা ও স্বাধীন চিন্তার মাধ্যমে। এই চিন্তাধারা থেকেই তিনি পরবর্তীতে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

“শিক্ষা মানে কেবল তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং মনের উন্মুক্তকরণ।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

৩. চিত্রকলায় দক্ষতা

অনেকেই জানেন না যে রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি বা সাহিত্যিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী। ৬০ বছর বয়সের পর তিনি চিত্রকলায় মনোনিবেশ করেন এবং প্রায় ২৫০০-এরও বেশি চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেন। তাঁর চিত্রকলায় সুররিয়ালিজম এবং আধুনিকতার ছোঁয়া ছিল, যা তাঁর সাহিত্যের মতোই গভীর ও দার্শনিক।

৪. বিশ্ব ভ্রমণ এবং প্রভাব

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন অত্যন্ত ভ্রমণপিপাসু মানুষ। তিনি ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, চীন, রাশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। এই ভ্রমণ তাঁর চিন্তাধারা ও সাহিত্যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের সংস্কৃতির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।

৫. সমাজ সংস্কারে অবদান

⁷ রবীন্দ্রনাথ শুধু সাহিত্যিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি নারী শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন, এবং সামাজিক সমতার পক্ষে কাজ করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ছিল এমন একটি শিক্ষা কেন্দ্র, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রকৃতির মাঝে মুক্তভাবে শিক্ষা দেওয়া হতো।

৬. রবীন্দ্রসঙ্গীতের বৈচিত্র্য

রবীন্দ্রনাথ প্রায় ২২০০ গান রচনা করেছেন, যা “রবীন্দ্রসঙ্গীত” নামে পরিচিত। তাঁর গানে প্রেম, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং সমাজের বিভিন্ন দিক প্রতিফলিত হয়। তিনি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত “জন গণ মন” এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা” রচনা করেন।

উপসংহার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যাঁর জীবন ও কর্ম বাংলা সাহিত্য এবং বিশ্ব সংস্কৃতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর জীবনের এই অজানা তথ্যগুলো আমাদের তাঁর বহুমুখী প্রতিভার আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। তাঁর সৃষ্টি ও দর্শন আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

Post a Comment

0 Comments